সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি সরকারের মেয়াদেই গেজেট আকারে নতুন প...
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি সরকারের মেয়াদেই গেজেট আকারে নতুন পে-স্কেল প্রকাশ এবং তা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেল ২০২৬ সালের শুরু (জানুয়ারি/মার্চ/এপ্রিল) থেকে কার্যকর হতে পারে। এ বিষয়ে কাজ করছে সরকার গঠিত পে কমিশন।
জানা গেছে, প্রায় এক দশক পর সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নতুন পে কমিশন গঠন করেছে সরকার। এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই ঘোষণা হবে নবম পে স্কেল, যা সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ২০২৫ সালের পে কমিশন গঠনের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের নজর এখন শুধু বেতন বৃদ্ধিতে নয়, বরং গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য কমিয়ে বেতন অনুপাত পুনর্গঠনের দিকেও।
এদিকে জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হলে কিছু সুবিধা বাতিল হবে। প্রস্তাবে ‘সাকুল্য বেতন’ কিংবা ‘পারিশ্রমিক’ নামে বিকল্প বেতন কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে। যেখানে বিদ্যমান বেতন কাঠামোর ভাতাসহ আর্থিক ও অনার্থিক কোনো সুবিধাই থাকবে না। প্রস্তাবিত এই বেতন কাঠামো অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে চালু আছে।
বিভিন্ন সরকারি সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের প্রদেয় সম্মানী বা অতিরিক্ত ভাতা নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছে কমিশন। এসব দায়িত্ব মূল কর্মপরিধির মধ্যেই পড়ে, তাই এ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ প্রদান অযৌক্তিক বলে কমিশন মনে করছে। এ খাতে প্রতিবছর সরকারের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। নতুন কাঠামোয় এ ব্যয় বাতিলের জন্য প্রস্তাবও রয়েছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সদস্যসচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিক স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
